দ্রুত বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র ইনস্টলেশনে একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে জাপানের প্রকৌশল কোম্পানি তোদা। এটি অফশোর বায়ু টারবাইন নির্মাণ ব্যয় ২০ শতাংশ বা এক-পঞ্চমাংশ কমাবে। নতুন এ পদ্ধতিতে টারবাইনের টাওয়ার ও ব্লেডসহ পুরো কাঠামো আগেই স্থলভাগে বা জাহাজে জোড়া লাগানো হয়। তারপর ক্রেন-বার্জ দিয়ে সমুদ্রে নির্দিষ্ট জায়গায় বসানো হয়। সাধারণভাবে এ ধরনের টারবাইন বানাতে ১০ দিন লাগে। তোদার প্রযুক্তি ব্যবহার করলে সময় চার ভাগের এক ভাগে নেমে আসে। স্থায়ী অফশোর বায়ু টারবাইনগুলোর ভিত্তি সমুদ্রতলে স্থাপন করা হয়। অন্যদিকে ভাসমান বায়ু টারবাইন দেখতে অনেকটা রশিতে বাঁধা ভাসমান বয়ার মতো। প্রায় পুরোপুরি গভীর উপকূলীয় জলে পরিবেষ্টিত দ্বীপদেশ জাপানের জন্য ভাসমান টারবাইন বেশি উপযোগী। তবে প্রায়ই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় নির্মাণ ব্যয়। এখনো ইউনিট-প্রতি টারবাইন বসাতে দাম পড়ে ১ হাজার ইয়েন বা প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার পর্যন্ত, যা স্থায়ী টারবাইনের তুলনায় অনেক ব্যয়বহুল। প্রচলিত পদ্ধতিতে টারবাইনের প্রতিটি অংশ আলাদাভাবে সমুদ্রে নিয়ে সংযোজন করতে হয়। টারবাইনগুলোর উচ্চতা সাধারণত ১০০ মিটারের বেশি হয়, তাই সব টারবাইন একসঙ্গে পরিবহন করলে ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। তোদার প্রযুক্তি জাহাজের দোলন ও টারবাইনের কম্পন আগেই সিমুলেট করতে পারে, এতে সম্ভাব্য ক্ষতি ঠেকানো যায়। এরই মধ্যে নাগাসাকির গোটো শহরের উপকূলবর্তী বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রে এ প্রযুক্তি পরীক্ষা করে সফল হয়েছে সংস্থাটি। প্রযুক্তিটি উন্নত করতে হোক্কাইদোর উপকূলে আরেকটি অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পে যোগ দিচ্ছে তোদা। এছাড়া আগামী বছর হাকোদায় শহরে একটি বৃহৎ ওয়ার্ক ভেসেল চালু করার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে জাপানের আরেক প্রতিষ্ঠান পেন্টা-ওশান কনস্ট্রাকশন গত জানুয়ারিতে বেশ কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে মিলে একটি ভাসমান অফশোর বায়ু প্রযুক্তি গ্রুপ গঠন করেছে। তাদের লক্ষ্য হলো এমন নির্মাণ পদ্ধতি উদ্ভাবন করা, যা ভাসমান টারবাইন নির্মাণের গতি দ্বিগুণ করবে। ব্যয় নিয়ে আশঙ্কার মাঝেও জাপানের শিল্প মন্ত্রণালয় সম্প্রতি জানিয়েছে, ২০৪০ সালের মধ্যে অন্তত ১৫ গিগাওয়াট ভাসমান বায়ুবিদ্যুৎ সক্ষমতা অর্জন করতে চায়, যা প্রায় ৯০ লাখ পরিবারে বিদ্যুৎ সরবরাহের সমান।
খবর ও ছবি নিক্কেই এশিয়া